ব্যারিস্টার আরমানকে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার দাবি
সম্প্রতি একটি পডকাস্টে ফ্যাসিবাদী আমলে গুমের শিকার হওয়া এবং ৫ আগস্টের পর ফিরে আসা ব্যারিস্টার আরমান বিন কাসেমের একটি মন্তব্য ঘিরে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আলোচনার এক পর্যায়ে তিনি বলেন, পৃথিবীতে কোথাও ‘শরীয়াহ রাষ্ট্র’ নেই। এরপর হাস্যরসের ভঙ্গিতে তিনি মন্তব্য করেন, “হুজুর will come after me with the চাপাতি।” এ সময় পাশে থাকা অন্য অতিথি সাদিক কায়েমকেও হাসতে দেখা যায়।
এই মন্তব্যকে আলেম সমাজের প্রতি ঢালাও কটাক্ষ ও কুরুচিপূর্ণ ব্যঙ্গ হিসেবে দেখছেন অনেকে। তাদের দাবি, বক্তব্যটি কোনো নির্দিষ্ট উগ্রবাদী গোষ্ঠীকে লক্ষ্য করে ছিল না; বরং পুরো ‘হুজুর’ বা আলেম সমাজকে সহিংসতার সঙ্গে একাকার করে উপস্থাপন করা হয়েছে। এতে করে আলেমদের ‘রক্তপিপাসু’ বা ‘চাপাতিধারী’ হিসেবে চিহ্নিত করার পুরনো স্টেরিওটাইপ নতুন করে উসকে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
সমালোচকদের মতে, এই ধরনের উপস্থাপন একটি নির্দিষ্ট বয়ানের পুনরাবৃত্তি, যেখানে আলেম সমাজকে অসভ্য বা বর্বর হিসেবে দেখানো হয়। তাদের বক্তব্য, অতীতে এই বয়ানই বিচারের নামে প্রহসন ও রাজনৈতিক দমনকে বুদ্ধিবৃত্তিক বৈধতা দিয়েছিল। সে প্রেক্ষাপটে একজন ভুক্তভোগীর কাছ থেকে এমন মন্তব্য আসা দুঃখজনক ও আত্মবিরোধী বলেও তারা মনে করছেন।
বাংলাদেশের গত পাঁচ দশকের রাজনৈতিক সহিংসতার চিত্র তুলে ধরে সমালোচকরা বলেন, অস্ত্র, আগুন বা সশস্ত্র সংঘাতের রাজনীতিতে তথাকথিত ‘সেকুলার’ ও ‘গণতান্ত্রিক’ দলগুলোর রেকর্ডই বেশি ভয়াবহ। তাদের দাবি, দেশের রাজনৈতিক সহিংসতার বড় অংশ ছাত্রসংগঠন ও মূলধারার রাজনৈতিক দলগুলোর মাধ্যমে সংঘটিত হয়েছে। সে বাস্তবতায় আলেম সমাজকে ‘চাপাতিধারী’ হিসেবে চিহ্নিত করা চরম অবিচার।
বর্তমান প্রেক্ষাপটে কিছু বুদ্ধিজীবীর মধ্যে নিজেদের ‘সভ্য’ বা ‘লিবারেল’ প্রমাণের প্রবণতা দেখা যাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সমালোচকদের মতে, আলেমদের ছোট করে দেখানো বা সেকুলার ঢঙে কথা বলে প্রগতিশীল মহলের মন জয় করার এই চেষ্টা বাস্তবে কোনো গ্রহণযোগ্যতা তৈরি করে না।
তারা আরও স্মরণ করিয়ে দেন, ২০১৩ সাল থেকে বিভিন্ন সময়ে জুলুমের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে সাধারণ আলেম ও মাদরাসা শিক্ষার্থীরাই রাজপথে সামনে থেকেছে এবং অনেক ক্ষেত্রে রক্ত দিয়েছে। জামায়াত নেতাদের ফাঁসির সময়ও সাধারণ আলেম সমাজ জীবন বাজি রেখে মাঠে ছিল বলে দাবি করা হয়।
এ অবস্থায় ‘সাধারণ আলেম সমাজ’-এর পক্ষ থেকে একটি স্পষ্ট দাবি জানানো হয়েছে। তাদের ভাষ্য, হুজুরদের ‘চাপাতিধারী’ হিসেবে উপস্থাপন করে দায়িত্বজ্ঞানহীন কৌতুক করার জন্য ব্যারিস্টার আরমান বিন কাসেমকে জনসমক্ষে ক্ষমা চাইতে হবে। পাশাপাশি রাজনৈতিক অবস্থান স্পষ্ট করার নামে আলেম সমাজকে বলির পাঁঠা বানানোর প্রবণতা থেকে সরে আসার আহ্বানও জানানো হয়েছে।
সমালোচকদের মতে, গুম ও নির্যাতনের মতো অন্ধকার সময় পার করে আসা একজন মানুষের প্রতি সহানুভূতি থাকলেও, মুক্তির পর যদি আলেম সমাজকে অবজ্ঞার দৃষ্টিতে দেখা হয়, তবে তা সমাজ ও জাতির জন্য অশনিসংকেত হয়ে উঠতে পারে।

মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন