আস্তিক-নাস্তিক বিষয়ে নদভীর জবাবে মুগ্ধ
জাভেদ আখতার:
যদি ঈশ্বর থাকেন, তবে পৃথিবীতে এত দুঃখ-কষ্ট কেন?
মুফতি শামাইল নাদভী:
যদি বিপদ-আপদই ঈশ্বরের অনুপস্থিতির প্রমাণ হয়, তবে ন্যায়বিচারের দাবি করাও অর্থহীন। বিপদ আসলে একথার প্রমাণ যে, মানুষের ভেতরে সঠিক ও ভুলের বোধ রয়েছে। আর এটাই ঈশ্বরের সবচেয়ে বড় নিদর্শন।
জাভেদ আখতার:
যদি অধিকাংশ মানুষ কোনো বিষয়কে সত্য মেনে নেয়,
তাহলে কি সেটাই সত্য হয়ে যায়?
মুফতি শামাইল নাদভী:
যদি সত্য নির্ধারিত হতো সংখ্যাগরিষ্ঠতার দ্বারা, তবে ইতিহাসে কখনো ভুল হতো না। তখন দাসত্ব, বর্ণবাদ ও জুলুমকেও সঠিক বলতে হতো। কারণ এক সময় এসবের পক্ষেই ছিল সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের সমর্থন।
জাভেদ আখতার:
যদি ঈশ্বরের কোনো বৈজ্ঞানিক প্রমাণ না থাকে, তবে আমরা কেন তাঁকে বিশ্বাস করব?
মুফতি শামাইল নাদভী :
যা কিছু বিদ্যমান, সবকিছুকে ল্যাবরেটরিতে দেখানো জরুরি নয়। বুদ্ধি, ভালোবাসা, বিবেক, ন্যায়বোধ, এসবেরও তো কোনো টেস্ট-টিউব প্রমাণ নেই, তবুও কেউ এগুলোকে অস্বীকার করে না।
জাভেদ আখতার :
ধর্ম মানুষের তৈরি, তাই এ নিয়ে প্রশ্ন তোলা জরুরি!
মুফতি শামাইল নাদভী:
প্রশ্ন তোলা অবশ্যই জরুরি, কিন্তু, আগে একটি বিষয় ঠিক করা যাক। আইন কি মানুষ তৈরি করে, না মহাবিশ্ব? যদি মানুষই সবকিছুর নিয়ন্ত্রক হতো, তবে মৃত্যু, প্রকৃতি ও ভাগ্যের ওপর তার কোনো কর্তৃত্ব কেন নেই?
জাভেদ আখতার:
আমি সেটাই মানি, যা আমার বুদ্ধি মেনে নেয়।
মুফতি শামাইল নাদভী:
বুদ্ধি অত্যন্ত মূল্যবান, কিন্তু বুদ্ধিই বলে সে সবকিছু বুঝতে সক্ষম নয়। যদি বুদ্ধি সবকিছু বুঝে ফেলত, তবে সেটাই হতো জ্ঞানের অহংকার।
জাভেদ আখতার:
ধর্ম মানুষকে বিভক্ত করে।
মুফতি শামাইল নাদভী:
ধর্ম মানুষকে বিভক্ত করে না। মানুষ নিজের স্বার্থে ধর্মকে ব্যবহার করে বিভাজন সৃষ্টি করে। একটি ছু/রি খাবারও কাটে, মানুষও কাটে। তাই দোষ ছু/রির নয়, বরং ব্যবহারকারীর।
এই সব প্রশ্নের উত্তরে মুফতি শামাইল নদভীর বক্তব্যে ছিল না কোন আবেগী স্লোগান। বরং ছিল বুদ্ধি, প্রকৃতি ও যুক্তির তিনটি স্পষ্ট প্রতিফলন। না ছিল উচ্চস্বরে কথা,
না ছিল বিদ্রূপ। ছিল কেবল শান্ত প্রশ্ন, যা বিরোধীদেরও ভাবতে বাধ্য করে দিল।
এটা কোনো বিতর্ক ছিল না, এটা ছিল যুক্তির ময়নাতদন্ত।
যেখানে কোনো হট্টগোল ছিল না, কিন্তু শব্দগুলো ছিল ভারী। যেখানে কোনো করতালি ছিল না, বরং নীরবতাই সাক্ষ্য দিচ্ছিল।
মুফতি সাহেব প্রমাণ করে দিলেন, ঈমান কোনো কুসংস্কার নয়, বরং একটি দৃঢ় বিশ্বাস, যা যুক্তির প্রতিটি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়। এটাকে শুধু 'জবাব' বলা কমই হবে। এটি ছিল চিন্তার মেরুদণ্ড কাঁপিয়ে দেওয়া এক ব্যাখ্যা।
এ ধরনের ব্যাখ্যার উদ্দেশ্য তর্ক জেতা নয়, বরং সত্যকে সামনে তুলে ধরা। শোরগোল চিল্লাচিল্লি আর ব্যাখ্যা দেওয়ার মধ্যে এটাই আসল পার্থক্য।
#নাস্তিক #ডিবেট #বাহাস #Shamail #javed

মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন